গাজীপুর, ২২ সেপ্টেম্বর (আইপত্রিকা ডেস্ক): দেশের সবচেয়ে বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রশাসনিক ভোগান্তি চিরতরে দূর করতে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির যাবতীয় কার্যক্রম শতভাগ ডিজিটাল ও পেপারলেস (কাগজবিহীন) পদ্ধতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় নবনিযুক্ত উপাচার্য এই সময়াবদ্ধ রূপান্তর পরিকল্পনার রূপরেখা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই রূপান্তরের আওতায় শিক্ষার্থীর ভর্তি নিবন্ধন, ফরম পূরণ, ফি প্রদান, ডিজিটাল অ্যাডমিট কার্ড, ইনকোর্স নম্বর এন্ট্রি থেকে শুরু করে মূল সনদ ও নম্বরপত্র যাচাই প্রক্রিয়া সেন্ট্রাল ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত করা হবে। অতীতে সামান্য একটি সার্টিফিকেটের সংশোধন বা ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গাজীপুর ক্যাম্পাসে সশরীরে এসে লাইনে দাঁড়াতে হতো। নতুন সিস্টেমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি নিজস্ব ‘ডিজিটাল স্টুডেন্ট পোর্টাল’ থাকবে, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই সব সেবা গ্রহণ করা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, পেপারলেস কার্যক্রম সফল করতে ইতোমধ্যে ‘ই-নথি’ ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যারের পরীক্ষামূলক ট্রায়াল শেষ হয়েছে। অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও আইসিটি ফোকাল পয়েন্টদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনো ফাইল বা আবেদন যাতে টেবিলে আটকে না থাকে, সেজন্য ফাইলে স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ও সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তির সময়সীমা সফটওয়্যারে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশাল নেটওয়ার্ক সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান যদি পুরোপুরি পেপারলেস হতে পারে, তবে তা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ডিজিটাল সুশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এর ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার কাগজ ও মুদ্রণ ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।





