বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের প্রায় সব ক্যাডারে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা ও পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) জারি হলেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এখনো ঝুলে রয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৩০ জুন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে ২৪ থেকে ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূতাপেক্ষ সুবিধা এবং পদস্বল্পতা কাটাতে সুপারনিউমারারি পদ সৃজনের দাবি জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রভাষকদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর তিন কর্মদিবস ডিপিসি সভা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত সরকারি আদেশ জারি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে বর্তমানে প্রভাষক পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তার সংখ্যা ৯ হাজার ৭৮২ জন, অথচ এর বিপরীতে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে অনুমোদিত পদ রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৫১টি। বিদ্যমান সহকারী অধ্যাপক পদে ইতিমধ্যে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা অনুমোদিত পদের চেয়ে বেশি হওয়ায় নতুন করে পদোন্নতি দেওয়ার মতো শূন্য পদ নেই। এই সংকট নিরসনে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক প্রয়াত অধ্যাপক বি এম আবদুল হান্নান স্বাক্ষরিত পত্রে ৩২তম থেকে ৩৭তম বিসিএস এবং সরকারি কলেজ জাতীয়করণ বিধিমালা ২০০০-এর আওতায় আত্তীকৃত কর্মকর্তাদের জন্য সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও ফাইলটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বিসিএস প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন; এমনকি ৩৬তম ব্যাচ ২০২৩ সালে, ৩৭তম ব্যাচ ২০২৪ সালে এবং ৩৮তম ব্যাচ ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। অথচ সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে বিগত পাঁচ বছরে মাত্র একবার ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি হয়েছে এবং ৩৬ থেকে ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা এখনো নবম গ্রেডের প্রভাষক পদেই রয়ে গেছেন। থিঙ্কট্যাংক অব সিভিল এডুকেশন ‘দ্য অ্যাডভাইজরস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ৩৬তম ব্যাচের প্রভাষক সচিব তালুকদার জানিয়েছেন, প্রায় ১৩ বছর চাকরির পরও তাঁরা প্রভাষক পদে রয়েছেন এবং ১৩ ব্যাচ কনিষ্ঠ ৪৯তম বিসিএসের নবীন কর্মকর্তারাও একই প্রভাষক পদে যোগ দিচ্ছেন, যা শিক্ষকদের সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
এর আগে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে পৃথক স্মারকে ডিপিসি সভা আহ্বান করা হয়েছিল, যা ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তখন স্থগিত হয়। সম্প্রতি গত ১৩ অক্টোবর বগুড়ায় এক যোগদান অনুষ্ঠানে ৪৯তম ব্যাচের নবীন কর্মকর্তারা শিক্ষা ক্যাডারের এই হতাশার বিষয়টি তুলে ধরলে উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দাবিগুলো স্পষ্টভাবে ফাইলে নোট করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। তবে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির স্থায়ী কাঠামো গড়ে না ওঠায় হাজারো শিক্ষক কর্মকর্তার প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে না।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (https://www.prothomalo.com/education/higher-education/qo8mz1zame)। ঘটনার তারিখ: 2026-10-24






