আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্ববর্তী ঋণ কর্মসূচি বাতিল করে তিন বছর মেয়াদি ৪৫০ কোটি ডলারের একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নতুন ঋণ প্রস্তাবের আলোচনায়ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করা, একক মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হার নির্ধারণ এবং শুল্ক-কর ছাড় কমিয়ে আনার মতো পুরোনো শর্তগুলোই সামনে এসেছে। গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক যৌথ সভার ফাঁকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইএমএফ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
আইএমএফের আগের ঋণের শর্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আহরণের জন্য দুটি আলাদা বিভাগ গঠনের কথা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করলেও বর্তমান সরকার তা আইনে রূপান্তর না করে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে, যা ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অন্যদিকে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরনের করছাড় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার শর্তের বিষয়ে এনবিআরের অবস্থান হলো, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের স্বার্থে একযোগে সব করছাড় প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়; তবে রাজস্ব খাতে অটোমেশন জোরদার করার শর্তের সঙ্গে সংস্থাটি একমত পোষণ করেছে।
দেশে বর্তমানে ১৫, ১০, ৭.৫, ৫, ৪.৫, ৪, ২.৪, ২, ১.৫ ও ০ শতাংশ মিলিয়ে মোট ১০টি ভ্যাটের হার চালু রয়েছে, যদিও অধিকাংশ পণ্য ও সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। আইএমএফের তাগিদে একাধিক ভ্যাট হার তুলে দিয়ে একক ভ্যাট হারে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে এনবিআর, যার আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে হ্রাসকৃত ভ্যাট হারগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে দিয়ে ২০৩০ সালে একক ভ্যাট হার চালু করা হবে। বিদ্যমান আইন অনুসারে একক ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত একক ভ্যাট হার নির্ধারণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, কেবল আইএমএফের শর্ত পূরণের জন্য নয়, বরং অভ্যন্তরীণ অর্থের জোগান বাড়াতেই করছাড় হ্রাস এবং নীতি ও আদায় বিভাগ আলাদা করাসহ রাজস্ব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদও জনভোগান্তি কমাতে নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়ের জন্য দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (https://www.prothomalo.com/business/economics/uze7j7tdw0)। ঘটনার তারিখ: 2026-10-23






