পুঁজিবাজারের প্রচলিত বিনিয়োগ তত্ত্ব অনুযায়ী কোনো খাতের শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও যত কম থাকে, সেখানে বিনিয়োগের ঝুঁকিও তত কম বলে বিবেচিত হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মানদণ্ডে দেশের শেয়ারবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে ব্যাংকিং খাত অবস্থান করছে এবং গত সপ্তাহ শেষে এ খাতের গড় পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ২৭। তবে এত কম মূল্য আয় অনুপাত থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাংকের শেয়ার কেনায় তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে মোট ৩৬টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যমান শূন্য ঘোষণা করায় সেগুলোর লেনদেন বন্ধ রয়েছে এবং খেলাপি ঋণ ও নানা অনিয়মে বড় লোকসানে থাকা আরও ৭টি ব্যাংকের পিই রেশিও প্রকাশ করা হয়নি। বাকি ২৪টি ব্যাংকের নিয়মিত আয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে ডিএসই জানিয়েছে, ১১টি ব্যাংকের পিই রেশিও ৫-এর নিচে এবং ৭টি ব্যাংকের অনুপাত ১০-এর নিচে রয়েছে। সবচেয়ে কম পিই রেশিও থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় ২ দশমিক ৮৮ অনুপাত নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যমুনা ব্যাংক, যার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক (৩ দশমিক ২৩), সাউথইস্ট ব্যাংক (৩ দশমিক ৪৫), এনসিসি ব্যাংক (৩ দশমিক ৫১) এবং প্রাইম ব্যাংক (৪ দশমিক ১৪)।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্যাংক খাতের সামগ্রিক অস্থিরতা এবং অতীত অভিজ্ঞতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বেশির ভাগ ব্যাংকের প্রকাশিত অনিরীক্ষিত ও বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের ইপিএস বা শেয়ারপ্রতি আয়ের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বাজারে সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোর প্রদর্শিত মুনাফার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে এবং বাজারে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের চেয়ে স্বল্পমেয়াদি লেনদেনে বেশি মনোযোগী হওয়ায় ধীরগতির ব্যাংক শেয়ারে তাঁদের ঝোঁক কম।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি ব্যাংকের মুনাফা বাড়লেও তার সিংহভাগ এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে, যা প্রকৃত ব্যাংকিং ব্যবসার টেকসই প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে না। অন্যদিকে অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশই মন্দ বা খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশনিং) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না। মূলত লভ্যাংশের এই সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের কারণেই কম পিই রেশিও সত্ত্বেও ব্যাংক খাত বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (https://www.prothomalo.com/business/market/hnd49we3d5)। ঘটনার তারিখ: 2026-10-24






