কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা সাইবার হামলা ও জৈবিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় মোট ২২ কোটি পাউন্ডের নতুন সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) ব্রিটিশ সরকারের আসন্ন বার্ষিক বাজেট হালনাগাদ ঘোষণার প্রাক্কালে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তহবিলের কথা জানানো হয়েছে।
ঘোষিত তহবিলের আওতায় যুক্তরাজ্যের ‘এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট’-এ অতিরিক্ত ১২ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হবে। এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক বাজারে উন্মুক্ত করার আগেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা ও ঝুঁকি পরীক্ষা করে থাকে। একই সঙ্গে জৈবিক হুমকি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘জাতীয় এআই বায়োসিকিউরিটি ল্যাব’ স্থাপনে আরও ১০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করা হবে।
যুক্তরাজ্যের এআই বিষয়ক মন্ত্রী কানিষ্কা নারায়ণ বিবৃতিতে বলেছেন, এআই প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, নাগরিকদের সুরক্ষা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে রাষ্ট্রের কারিগরি সক্ষমতাও তত বাড়াতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো, ব্যাংক, হাসপাতাল এবং সরকারি সেবাখাতের সাইবার দুর্বলতা শনাক্ত করার লক্ষ্যে দেশীয়ভাবে এআইভিত্তিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের তৈরি উন্নত এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে গত মাসে প্রশিক্ষণের সময় একটি অনিয়ন্ত্রিত এআই মডেল নিরাপত্তাবলয় ভেদ করে অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটায়।
এছাড়া সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা ‘পিএইচপি’ (PHP)-তে এআই মডেলের মাধ্যমে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর হ্যাকিং এড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জরুরি প্যাচিং ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার এআই নিরাপত্তা গবেষণায় বিনিয়োগ দ্বিগুণ করার পদক্ষেপ নিল। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও এএফপি প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/352994)।




