পাহাড় ও গভীর টিলার কারণে যেসব দুর্গম চা বাগানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ লাইন পৌঁছানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ছিল, সেখানে আধুনিক সোলার মিনি-গ্রিড প্রযুক্তি আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। মৌলভীবাজার ও সিলেটের ৮টি চা বাগানের শ্রমিক পল্লীতে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) অর্থায়নে স্থাপিত হয়েছে ৩৫০ কিলোওয়াটের পরিবেশবান্ধব সোলার মিনি-গ্রিড।
**প্রকল্পের সুফল ও সামাজিক রূপান্তর:** - **২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ:** ঘরে ঘরে ফ্যান, এলইডি বাতি ও মোবাইল চার্জের সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। - **শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা:** কেরোসিনের কুপির ধোঁয়া থেকে মুক্তি পেয়ে গভীর রাত পর্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারছে চা শ্রমিকদের সন্তানেরা। - **সৌরচালিত পাম্পে বিশুদ্ধ পানি:** আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত সুপেয় পানির জন্য প্রতিটি মিনি-গ্রিডের সাথে গভীর নলকূপ ও অটোমেটিক ফিল্টারিং যুক্ত করা হয়েছে। - **কুটির শিল্পের বিকাশ:** রাতে বিদ্যুৎ থাকায় নারীরা সেলাই ও বাঁশের কারুশিল্প তৈরি করে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
কমলগঞ্জের সুনছড়া চা বাগানের শ্রমিক মঙ্গলী রবিদাস বলেন, শত বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা অন্ধকারে কাটিয়েছেন, আজ ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে ওঠায় তাদের জীবনযাত্রায় আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছরের মধ্যে সিলেটের সব কয়টি দূরবর্তী চা বাগানকে সম্পূর্ণ সবুজ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

