বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্ত সঞ্চালনকারী চালিকাশক্তি হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প (এসএমই)। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং শিল্প উৎপাদনের সিংহভাগ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্যাংকগুলোর প্রচলিত ঋণ নীতিমালার কঠিন শর্তাবলীর কারণে এখনও বেশিরভাগ উদ্যোক্তা মহাজনদের চড়া সুদের ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে পারেননি।
একজন তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যখন ব্যাংক ম্যানেজারের টেবিলে যান, তখন তার উদ্ভাবনী পণ্য বা নিয়মিত বিক্রির রেকর্ডের চেয়ে বেশি খোঁজা হয় স্থাবর জমির দলিল ও সরকারি চাকরিজীবী গ্যারান্টার। এই মানসিকতা পরিবর্তন না হলে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর বিকাশ স্থবির হয়ে পড়বে।
আমাদের ফিনটেক বিপ্লব এখন ব্যাংকিং সিস্টেমকে সেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়েছে যার মাধ্যমে একজন মুদি দোকানি বা জুতো তৈরির কারিগরের দৈনিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল লেনদেন বিশ্লেষণ করে তার 'ক্রেডিট স্কোরিং' স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংককে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য বাধ্যবাধকতা জারি করতে হবে যাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত এসএমই ঋণ সম্পূর্ণ কাগজবিহীনভাবে ডিজিটাল অ্যাপসের মাধ্যমেই বিতরণ করা হয়। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার হাতে পুঁজি পৌঁছানোই সবচেয়ে কার্যকর বিনিয়োগ।

