বর্ষায় চার মাস জলমগ্ন থাকা হাওরবাসীদের জন্য আধুনিক সমন্বিত জলকৃষি নিয়ে এসেছে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ কারিগরি সহায়তায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে চালু হয়েছে 'ভাসমান সবজি ও খাঁচায় মাছ চাষের স্মার্ট ইকো-মডেল'।
**এক নজরে প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুফল:** - **দ্বিমুখী উৎপাদন:** কচুরিপানার ভাসমান বেডের ওপরে লালশাক, কলমি ও শসা; পানির নিচে জালঘেরা খাঁচায় কৈ ও তেলাপিয়া চাষ। - **প্রাকৃতিক পুষ্টি চক্র:** মাছের রেচন পদার্থ পচে গিয়ে ভাসমান সবজির শিকড়ে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। - **শূন্য রাসায়নিক প্রয়োগ:** কোনো কৃত্রিম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না, ফলে উৎপাদিত সবজি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অর্গানিক। - **ব্যয় সাশ্রয়:** স্বাভাবিক চাষের চেয়ে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ কম।
হাওরের কৃষক নিখিল দাস জানান, আগে বছরের এই সময়টায় তাদের দিনমজুরি ছাড়া কোনো কাজ থাকত না। এবার মাত্র দুটি ভাসমান ইউনিটে আড়াই মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মাছ ও সবজি বিক্রি করেছেন তিনি।
কৃষিবিদরা বলছেন, হাওরের লাখো হেক্টর উন্মুক্ত জলরাশিকে এভাবে উৎপাদনশীলতায় রূপান্তর করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটে যাবে।


