ঢাকার নর্দমা, নদী ও আবাদি জমিগুলোর বুক চিরে যখন টন কে টন পলিথিন বর্জ্য উদ্ধার হয়, তখন নাগরিক হিসেবে আমাদের সম্মিলিত পরিবেশগত সচেতনতার করুণ রূপটি প্রকাশ পায়। আইনগতভাবে পলিথিন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিকল্প পণ্যের পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিনের কাঁচাবাজারে পলিথিনের ছড়াছড়ি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
অথচ আমাদের হাতে রয়েছে পাটের মতো এক অপার সোনালী সম্পদ। বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের তৈরি 'সোনালী ব্যাগ' বা সেলুলোজভিত্তিক বায়ো-প্লাস্টিক প্রাকৃতিকভাবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মাটিতে মিশে যায় এবং এটি পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিকে গবেষণাগারের প্রদর্শনী থেকে সাধারণ মুদি দোকানে পৌঁছে দিতে হলে বৃহৎ আকারের বাণিজ্যিক উৎপাদনের বিকল্প নেই। সরকারকে পাটের টেকসই ব্যাগ প্রস্তুতকারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর অবকাশ ও ভর্তুকি দিয়ে এই ব্যাগের উৎপাদন খরচ পলিথিনের কাছাকাছি নিয়ে আসতে হবে।
একই সাথে সুপারশপ ও কর্পোরেট চেইনগুলোতে কাপড় ও পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, প্রকৃতিকে প্লাস্টিক মুক্ত রাখা আমাদের প্রতিটি নাগরিকের অবিসংবাদিত দায়িত্ব।

