ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (আইপত্রিকা ডেস্ক): বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সাইবার নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং সাইবার ফরেনসিক ল্যাবরেটরির আধুনিকায়নে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধির দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও চীন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং চীনের প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা প্রতিনিধিদলের মধ্যে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথ সংলাপে এই সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ফিশিং আক্রমণ, ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোয় (সিআইআই) ম্যালওয়্যার হামলার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের অত্যাধুনিক সাইবার ট্র্যাকিং প্রযুক্তি, এআইভিত্তিক ফ্রড ডিটেকশন সিস্টেম এবং বিগ ডাটা অ্যানালিটিকসের অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সীমান্তবিহীন ডিজিটাল অপরাধ ও আন্তর্জাতিক হ্যাকিং চক্রের তৎপরতা দমন করতে হলে প্রযুক্তি ও তথ্যের তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান অপরিহার্য। চীন ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি ‘যৌথ সাইবার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই গ্রুপের আওতায় বাংলাদেশি সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উন্নত হ্যান্ডস-অন প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল তদন্তে উচ্চতর ফরেনসিক টুলস সরবরাহ করা হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে জাতীয় সাইবার স্পেস সুরক্ষিত রাখা ভৌগোলিক সীমান্ত পাহারার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ক্যাশলেস সোসাইটি ও স্মার্ট ডিজিটাল সেবার পরিধি দ্রুত বাড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় বন্ধুভাবাপন্ন প্রযুক্তি পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলা সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বহুগুণ এগিয়ে রাখবে।






