ক্যানবেরা ও ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (আইপত্রিকা ডেস্ক): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অ্যালগরিদমিক অপব্যবহার থেকে সাধারণ নাগরিক ও কোমলমতি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্কের রূপরেখা জোরদার করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার কর্তৃক উত্থাপিত নতুন অনলাইন সুরক্ষা আইন এবং বৈশ্বিক টেক ফোরামের আলোচনায় এআই নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি জায়ান্টদের কঠোর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেটিভ এআই টুলসের সহজলভ্যতার কারণে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, ডিপফেক ভিডিও তৈরিতে ব্যক্তিগত তথ্যের চুরি এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সম্প্রতি এক বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কেবল ব্যবহারকারীদের ওপর সতর্কতা জারি করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের দায় এড়াতে পারে না। বরং প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমে স্বয়ংক্রিয় সেফগার্ড এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে ডেভেলপারদের প্রত্যক্ষ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি গবেষকরাও বৈশ্বিক এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনা করছেন। দেশে সম্প্রতি দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারকারী বৃদ্ধির সাথে সাথে তরুণ সমাজের মাঝে এআই ভিত্তিক অ্যাপের ব্যবহার ব্যাপক বেড়েছে। স্থানীয় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সংগতি রেখে জাতীয় পর্যায়েও ‘রেসপনসিবল এআই গাইডলাইন’ বা দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন যে, উদ্ভাবনকে কোনোভাবেই থামানো যাবে না, তবে প্রযুক্তির বিকাশ যেন মানবাধিকার ও সাইবার নিরাপত্তার পরিপন্থী না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং টেক উদ্যোক্তাদের সমন্বিত অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।






